বাংলাদেশে স্বর্ণের দাম সময়ের সাথে নানা অর্থনৈতিক পরিবর্তনের প্রভাবে ওঠানামা করেছে। আন্তর্জাতিক বাজার, ডলারের বিনিময় হার এবং স্থানীয় চাহিদা—সব মিলিয়েই এই দামের উপর প্রভাব ফেলে।
গত কয়েক দশকে স্বর্ণের দাম ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেয়েছে, যদিও মাঝে মাঝে স্বল্পমেয়াদী পতনও দেখা গেছে।
বাজুস অনুযায়ী বাংলাদেশে সোনার দামের সম্পূর্ণ ইতিহাস, চার্ট ও বিশ্লেষণ। সর্বশেষ আপডেট: শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬
Gold Price History in Bangladesh
| তারিখ | ২২K (ভরি) | ২১K (ভরি) | ১৮K (ভরি) | সনাতন (ভরি) |
|---|---|---|---|---|
| ৪ জুন, ২০২৬ | ৳২৩৪,৮৫৫ ━ অপরিবর্তিত | ৳২২৪,১৮২ ━ অপরিবর্তিত | ৳১৯২,১৬৪ ━ অপরিবর্তিত | ৳১৫৬,৪৭৩ ━ অপরিবর্তিত |
| ৩ জুন, ২০২৬ | ৳২৩৪,৮৫৫ ━ অপরিবর্তিত | ৳২২৪,১৮২ ━ অপরিবর্তিত | ৳১৯২,১৬৪ ━ অপরিবর্তিত | ৳১৫৬,৪৭৩ ━ অপরিবর্তিত |
| ২ জুন, ২০২৬ | ৳২৩৪,৮৫৫ ▼ ৳৩,২৬৬ | ৳২২৪,১৮২ ▼ ৳৩,১৪৯ | ৳১৯২,১৬৪ ▼ ৳২,৬৮৩ | ৳১৫৬,৪৭৩ ▼ ৳২,২১৬ |
| ১ জুন, ২০২৬ | ৳২৩৮,১২১ ━ অপরিবর্তিত | ৳২২৭,৩৩১ ━ অপরিবর্তিত | ৳১৯৪,৮৪৭ ━ অপরিবর্তিত | ৳১৫৮,৬৮৯ ━ অপরিবর্তিত |
| ৩১ মে, ২০২৬ | ৳২৩৮,১২১ ━ অপরিবর্তিত | ৳২২৭,৩৩১ ━ অপরিবর্তিত | ৳১৯৪,৮৪৭ ━ অপরিবর্তিত | ৳১৫৮,৬৮৯ ━ অপরিবর্তিত |
| ৩০ মে, ২০২৬ | ৳২৩৮,১২১ ━ অপরিবর্তিত | ৳২২৭,৩৩১ ━ অপরিবর্তিত | ৳১৯৪,৮৪৭ ━ অপরিবর্তিত | ৳১৫৮,৬৮৯ ━ অপরিবর্তিত |
| ২৯ মে, ২০২৬ | ৳২৩৮,১২১ ━ অপরিবর্তিত | ৳২২৭,৩৩১ ━ অপরিবর্তিত | ৳১৯৪,৮৪৭ ━ অপরিবর্তিত | ৳১৫৮,৬৮৯ ━ অপরিবর্তিত |
| ২৮ মে, ২০২৬ | ৳২৩৮,১২১ ━ অপরিবর্তিত | ৳২২৭,৩৩১ ━ অপরিবর্তিত | ৳১৯৪,৮৪৭ ━ অপরিবর্তিত | ৳১৫৮,৬৮৯ ━ অপরিবর্তিত |
| ২৭ মে, ২০২৬ | ৳২৩৮,১২১ ━ অপরিবর্তিত | ৳২২৭,৩৩১ ━ অপরিবর্তিত | ৳১৯৪,৮৪৭ ━ অপরিবর্তিত | ৳১৫৮,৬৮৯ ━ অপরিবর্তিত |
| ২৬ মে, ২০২৬ | ৳২৩৮,১২১ ━ অপরিবর্তিত | ৳২২৭,৩৩১ ━ অপরিবর্তিত | ৳১৯৪,৮৪৭ ━ অপরিবর্তিত | ৳১৫৮,৬৮৯ ━ অপরিবর্তিত |
গত ৩০ দিনে বাংলাদেশে ২২ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ভরি ৳২৪২,৪৯৫ থেকে ৳২৩৪,৮৫৫ এ কমেছে (৩.২%) । এই সময়ে মোট ৩ বার দাম বেড়েছে, ৫ বার কমেছে এবং ২১ দিন অপরিবর্তিত ছিল।
এই সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ দাম ছিল ৳২৪৪,৭১১ (৭ মে, ২০২৬) এবং সর্বনিম্ন দাম ছিল ৳২৩৪,৮৫৫ (২ জুন, ২০২৬)।
গত ১ বছরে ২২ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ভরি ৳১৬৫,৭৩৪ থেকে ৳২৩৪,৮৫৫ হয়েছে, অর্থাৎ ৪১.৭% বেড়েছে ।
সর্বকালীন সর্বোচ্চ দাম ছিল প্রতি ভরি ৳২৮৬,০০১ এবং সর্বনিম্ন দাম ছিল ৳১৮,৮৯৬। ৭ মার্চ, ২০০৭ থেকে মোট ৯৫৮ দিনের ডাটা সংরক্ষিত আছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম, মার্কিন ডলারের বিনিময় হার এবং ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশে সোনার দাম নির্ধারিত হয়। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) নিয়মিত মূল্য আপডেট করে থাকে। দীর্ঘমেয়াদে সোনা একটি নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হলেও, স্বল্পমেয়াদে দামের ওঠানামা স্বাভাবিক।
আজকে ৪ জুন, ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশে ২২ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ভরি ৳২৩৪,৮৫৫ টাকা (বাজুস অনুযায়ী)। প্রতি গ্রাম হিসাবে ৳২০,১৩৫ টাকা।
৪ জুন, ২০২৬ তারিখে ২১ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ভরি ৳২২৪,১৮২ (প্রতি গ্রাম ৳১৯,২২০) এবং ১৮ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ভরি ৳১৯২,১৬৪ (প্রতি গ্রাম ৳১৬,৪৭৫)। সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম প্রতি ভরি ৳১৫৬,৪৭৩।
গত ১ বছরে ২২ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ভরি ৳১৬৫,৭৩৪ থেকে ৳২৩৪,৮৫৫ হয়েছে, অর্থাৎ ৪১.৭% বেড়েছে।
গত ৫ বছরে ২২ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ভরি ৳১৮,৮৯৬ থেকে ৳২৩৪,৮৫৫ হয়েছে, অর্থাৎ ১১৪২.৯% বেড়েছে। উপরের চার্ট ও টেবিলে বিস্তারিত দিনভিত্তিক দাম দেখতে পারবেন।
বাংলাদেশে ২২ ক্যারেট সোনার সর্বকালীন সর্বোচ্চ দাম ছিল প্রতি ভরি ৳২৮৬,০০১ (২৯ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখে)। সর্বনিম্ন দাম ছিল প্রতি ভরি ৳১৮,৮৯৬ (৭ মার্চ, ২০০৭ তারিখে)। ৭ মার্চ, ২০০৭ থেকে মোট ৯৫৮ দিনের ডাটা সংরক্ষিত আছে।
বাংলাদেশে ১ ভরি = ১১.৬৬৪ গ্রাম। ১ ভরিতে ১৬ আনা এবং ১ আনা = ০.৭২৯ গ্রাম। সোনা কেনার সময় ভরি, গ্রাম বা আনা যেকোনো একক ব্যবহার করা যায়। বাজুস সাধারণত ভরি হিসাবে দাম নির্ধারণ করে।
২২ ক্যারেট সোনায় ৯১.৬৭% খাঁটি সোনা থাকে এবং ২১ ক্যারেটে ৮৭.৫% খাঁটি সোনা থাকে। ২২ ক্যারেট বেশি খাঁটি তাই দাম বেশি। বাংলাদেশে গহনা তৈরিতে সাধারণত ২১ ক্যারেট বেশি ব্যবহৃত হয় কারণ এটি তুলনামূলক শক্ত ও টেকসই।
সনাতন পদ্ধতির সোনা সাধারণত প্রায় সাড়ে ১৬ থেকে ১৭ ক্যারেটের কাছাকাছি হয়। এটি পুরনো পদ্ধতিতে তৈরি এবং খাঁটিত্ব কম থাকায় দাম তুলনামূলক কম। আজকে সনাতন সোনার দাম প্রতি ভরি ৳১৫৬,৪৭৩।
সোনার দাম বাড়া-কমার প্রধান কারণগুলো হলো: ১) আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার মূল্য পরিবর্তন ২) মার্কিন ডলারের বিনিময় হার ৩) মূল্যস্ফীতি ৪) ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ৫) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রানীতি ৬) সোনার চাহিদা ও সরবরাহ। সাধারণত অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় সোনার দাম বাড়ে।
সোনার দামের ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় দীর্ঘমেয়াদে সোনার দাম সাধারণত বাড়ে। গত ৫ বছরে ১১৪২.৯% বেড়েছে। তবে স্বল্পমেয়াদে আন্তর্জাতিক বাজার, ডলারের বিনিময় হার ও ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে দাম ওঠানামা করতে পারে।
ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী সাধারণত বছরের শুরুতে (জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি) সোনার দাম তুলনামূলক কম থাকে। বিয়ের মৌসুম ও ঈদের আগে চাহিদা বাড়ায় দাম বাড়তে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের ক্ষেত্রে যেকোনো সময়ই কেনা যায়। সোনা কেনার আগে বাজুসের দাম যাচাই করে নেওয়া উচিত।
বাজুস (BAJUS - Bangladesh Jewellers Association) হলো বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন। তারা আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য, ডলারের বিনিময় হার এবং স্থানীয় চাহিদার ভিত্তিতে বাংলাদেশে সোনার দাম নির্ধারণ করে। সব স্বীকৃত জুয়েলারি দোকান বাজুসের নির্ধারিত মূল্য অনুসরণ করে।
সোনা কেনার সময় খেয়াল রাখুন: ১) বাজুস অনুমোদিত দোকান থেকে কিনুন ২) হলমার্ক যাচাই করুন ৩) ক্যারেট নিশ্চিত করুন ৪) মজুরি/মেকিং চার্জ আলাদা হিসাব করুন ৫) সঠিক ওজন ডিজিটাল স্কেলে পরিমাপ করুন ৬) রশিদ/ইনভয়েস সংরক্ষণ করুন ৭) বাজুসের নির্ধারিত দামের সাথে মিলিয়ে দেখুন।